মদন ত্রয়োদশীতেই প্রেমের সৃষ্টি!!!-রিপন কুমার সাহা(সভাপতি -শারদাঞ্জলি ফোরাম চাঁদপুর)
মদন ত্রয়োদশীতেই প্রেমের সৃষ্টি!!!
– রিপন কুমার সাহা।
আজ চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি, এ তিথির আরেক নাম মদন ত্রয়োদশী। এ তিথির বিশেষ দিবসটি সনাতনী হিন্দুদের একাংশ অঞ্চল ভিত্তিক পালন করে থাকেন কামদেব ও রতিদেবীর আরাধনার মাধ্যমে প্রেম সৃষ্টির রূপকার হিসেবে। অপরদিকে এ তিথিতে বসন্তেরও সমাপ্তি হয়ে শিবের গাজনের মেলার সুচনা হয়।ভারতের কোচবিহারের রাজবংশীয় সম্প্রদায় এবং অসম বা আসামের কামরূপ অঞ্চলে মদন কামদেবের মন্দির রয়েছে, সেখানে এ তিথিতে বিশেষ উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে ভক্তরা আধ্যাত্মিক ও সুখ- শান্তি কামনায় একটি বিশাল লম্বা বাঁশের মাথায় লাল কাপড় জড়িয়ে প্রেমের দেবতার পূজা করে থাকেন। ” ত্রয়োদশীতে বাঁশত কাপড় চতুর্দশীতে হোম। পূর্ণিমাতে বাড়ি বাড়ি বেড়ায় মদন কাম।।”পৌরানিক কাহিনী অনুসারে দক্ষ রাজের শিব বিহীন যজ্ঞে এবং শিব অপমানে কন্যা সতী পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে সেই যজ্ঞস্থলেই দেহ ত্যাগ করেন। এরপর সতীর দেহ ত্যাগে শোকাতুর শিব আসামের নীলাচল পাহাড়ে ধ্যানমগ্ন হলে সৃষ্টি ও প্রেম অন্তনিহিত হয়ে পড়ে। তখন দেবতাদের পরামর্শে তোতা বাহনে কামদেব ধ্যানস্থ শিবের হৃদয়ে পুষ্প শর নিক্ষেপের মাধ্যমে কাম এর উদ্রেক ঘটাতে গেলে শিবের ত্রিণয়নের অগ্নি স্ফুলিঙ্গে কামদেব ভস্মিভূত হয়ে যান। কামদেবের এমন পরিনতি দেখে স্ত্রী রতি শিব আরাধনা করে স্বামী কামদেবের জীবন ফিরিয়ে দেবার প্রার্থনা করেন, কামদেবের পুনজম্ম হয়। সেই পুনজম্ম স্থানের নাম কামরূপ, এটা আসামের একটি জেলা।একারনেই প্রাচিন প্রবাদ পতিভক্তিরূপা রমনীর স্বামী কখনও মরে না আর মরলেও সাধ্বী রমনী মৃত স্বামীকে তাঁর সাধনা, ত্যাগ ও প্রেম দ্বারা ফিরিয়ে আনতে পারেন যমের দুঁয়ার থেকে। সনাতন হিন্দু ধর্মের কাহিনীতে বেহুলা- লখিন্দর, সাবিত্রী- সত্যবান, রতি- কামদেব উল্লেখ যোগ্য।লেখকঃ সভাপতি, শারদাঞ্জলি ফোরাম, চাঁদপুর।তাং- ৩০/০৩/২০২৬ খ্রিঃ।
